কে বা কারা সাইবার অপরাধি ?

সকালে উঠলে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকতে গিয়ে দেখলেন আপনার একাউন্টে ঢুকতে পারছেন না। পাসওয়ার্ড রিসেট করতে গিয়ে দেখলেন ইমেইলটাতেও কেউ একজন পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলছে। মোবাইলে একগাদা ম্যাসেজ আপনার সব ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা ট্রানজেকশন হয়ে গেছে। ল্যাপটপ হাতে নিয়েই দেখলেন অফিসের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েব। শুধু এতটুকুই না আপনার ঘারে বিশাল লোনের বোঝাও চাপিয়ে দিছে ।কিছুক্ষণ পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাজির আপনার বাড়িতে জঙ্গী হিসেবে আপনাকে গ্রেফতার করতে।
এক নিমিষেই আপনাকে শেষ করে দিয়েছে কেউ একজন।
পরবর্তীতে তদন্তে দেখা গেলো আপনি একদল সাইবার অপরাধির খপ্পরে পরেছেন।
আসুন আজকে জানি এই সাইবার অপরাধী কারা ও তাদের সম্পর্কে । সিকসোর মতে সাইবার অপরাধিরা মূলত দুই ধরণের হয়ে থাকে।
    ক।    ইনসাইডার
    খ।    আউটসাইডার
ইনসাইডার সাইবার অপরাধি হলো আপনার আপন লোক । যে কিনা আপনার সম্পর্কে জানে। হতে পারে আপনার বন্ধু কলিগ বা পাড়ার মানুষ যে কিনা জানে আপনি কখন কোথায় যান আপনি কোন ধরণের ডিভাইস ব্যাবহার করেন । আপনার সাইবার জীবন নিয়ে আপনি কতটুকু সতর্ক ।আপনার জীবনের সকল ছোট ছোট তথ্য ।
এই ধরণের সাইবার অপরাধিরা সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে থাকে। কারণ এরা সহজেই আপনার সিস্টেমে ঢুকতে পারে আপনার সম্পর্কে জেনে। 
এর পরেই আসে আউট সাইডার সাইবার অপরাধি যারা আপনার থেকে দূরে থেকেই আপনার উপর সাইবার হামলা চালায় থাকে। আউট সাইডার সাইবার অপরাধিদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
    ক।    এমেচার ঃ এরা মূলত নতুন হ্যাকিং শিখছে এমন মানুষজন। দেখা যায় এরা মানুষের লেখা কোড বা আর্টিকেল যা  ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যায় তা দেখে শেখে এবং সেই সব টুলসের মাধ্যমেই সাইবার হামলা করে থাকে । এরা বেশি কিছু জানেও না বোঝেও না শুধু কাজ করে। এদের বলা হয় স্ক্রিপ্ট কিডস। 
    খ।    হ্যাকারঃ এরা মূলত এমন সাইবার অপরাধি যারা সাইবার জগত ও এর ভেতরে থাকা বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে ভালো ভাবে অবগত। মোদ্দা কথায় প্রশিক্ষিত হ্যাকার।এদের তিনভাগে বিভক্ত করা যায়।
                ১।    হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারসঃ এই শ্রেণীর হ্যাকাররা সাধারণত একটি সংস্থার সিস্টেমের দুর্বলতা খোঁজার কাজে নিজেদের নিয়জিত রাখে এবং কোন দুর্বলতা খুঁজে পেলে উক্ত সংস্থা কে এই বিষয়ে অবহিত করে সাহায্য করে। গুগল এই ধরণের হ্যাকারদের জন্যে Google Zero Project নামে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। 
               ২।     গ্রেহ্যাট হ্যাকারসঃ এই শ্রেণীর হ্যাকারদের আপনি ভালো বা খারাপ কিছুই বলতে পারবেন না। এরা আপনার সিস্টেমের দুর্বলতা বের করবে এবং আপনার সাথে যদি তাদের স্বার্থ জড়িয়ে থাকে তবে তা উদ্ধার করবে।নয়তো আপনার সিস্টেমের দুর্বলতা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবে।
                 ৩।    ব্লাক হ্যাট হ্যাকার্সঃ এই শ্রেণীর হ্যাকারদের কাজই হলো আপনার ক্ষতি করা। তারা আপনার সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজবে আপনার সিস্টেম হ্যাক করবে তার বিনিময়ে আপনাকে জিম্মি করে অর্থ নেবে এটাই তাদের মূল লক্ষ্য।
    গ।    হ্যাকটিভিস্টঃ    ধরুন সামনে নির্বাচন এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একাউন্ট হ্যাক করে সেই তথ্য ফাঁস করে নির্বাচনের ফলাফলে ভূমিকা রাখতে হবে। তখন যারা এই ধরণের সাইবার অপরাধ ঘটায় তারাই মূলত হ্যাকটিভিস্ট।
    ঘ।    টেররিস্টঃ    জঙ্গীবাদি কার্যক্রম যেমন একটা দেশের অর্থনীতি ধসিয়ে দিতে শেয়ার বাজারে সাইবার হামলা অথবা অটোমেটেড কোন রাস্ট্রায়াত্ত সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করে দেশ কে অচল করে দেয়া সাইবার অপরাধিরাই সাইবার টেররিস্ট।
    ঙ।    স্টেট স্পন্সরড হ্যাকারসঃ সাইবার যুদ্ধ চালাতে এখন অনেক দেশ তাদের নিজস্ব হ্যাকার বাহিনী গড়ে তুলেছে। এই নিয়ে অনেক মুভিও তৈরী হচ্ছে প্রতি নিয়ত । এদের কাজ হলো আরেকদেশের উপর নজরদারি, প্রয়োজন মাফিক তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল স্থাপনায় সাইবার হামলা করা। এই শ্রেণীর হ্যাকাররা সবচেয়ে দুর্ধর্ষ হয়ে থাকে।

সাইবার জগতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হ্যাকারদের থেকে নিজেকে নিজের পরিবারকে তথা নিজের দেশকে সুরক্ষিত করার গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি । এই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরো বেশী জোর দেয়া উচিত প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই এটা আমার নিজস্ব মতামত।আপনার এই বিষয়ে মতামত কি জানাবেন কিন্তু...


মন্তব্যসমূহ