ম্যালওয়ার আক্রমণ ও ম্যালওয়ার আক্রমণে ব্যাবহৃত জনপ্রিয় টুলস সমূহ
Spyware: এটা এমন একটা ম্যালওয়ার যা মূলত যার দ্বারা আক্রান্ত ডিভাইস এর ব্যাবহারকারীকে ট্রাক করা হয় তার অজান্তেই এবং তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যাবহার করা হয়। ধরুন আপনি এই ম্যালওয়ার এর স্বীকার হলেন।এই ধরণের টুলস আপনি কোথায় যাচ্ছেন সেই তথ্য থেকে শুরু করে কি লিখছেন কিবোর্ড ব্যাবহার করে তার সকল তথ্যই পাঠিয়ে দেয় হ্যাকারের কাছে আপনার অজান্তেই। এধরণের টুলস এমন ভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে তা ডিভাইসের নিরাপত্তা ব্যাবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখাতে সক্ষম হয়। মূলত এরা যেটা করে তা হলো কোন একটা লিগ্যাল সফটওয়্যারের এক্সটেনশন হিসেবে আপনার কাছেই পার্মিশন নিয়ে নেয় আপনার অজান্তেই।
Adware: ধরুন আপনি একটা গেম নামাতে গিয়ে কিছু ক্রাক নামালেন এবং ইনেস্টল করলেন। কিছুক্ষণ পরে আপনি দেখলেন আপনার পিসিতে একের পর এক এড আসা শুরু করেছে । কি বিরক্তিকর জিনিষ। আপনার মেজাজ ততক্ষণে গরম হয়ে গেছে। সমানে খুঁজে যাচ্ছেন কিন্তু কিছুই পাচ্ছেন না। হ্যাকাররা মূলত আপনার কাছে সঙ্গক্রিয় ভাবে বিজ্ঞাপন পাঠাতে এমন একধরণের টুলস পাঠায় যা লুকিয়ে থাকে কোন লিগ্যাল সফটওয়্যারের অংশ হিসেবে।
Bot: আপনি xyz.com এ ঢুকলেন একদিন । কি ভুলবসত আপনার কম্পিউটারে একটা এক্সটেনশন যুক্ত হয়ে গেলো আপনার অজান্তেই। তারপর কেটে গেলো অনেকদিন আপনি সব ভুলে গেছেন ততদিনে।একদিন খেয়াল করলেন আপনার কম্পিউটারে একটা অজানা প্রসেস চলছে। আপনার চার্জ দ্রুত শেষ করে দিচ্ছে। তারপরের দিন আবার গায়েব ।আবার কিছুদিন পর আবার একই ঘটনা। এই যে অজানা প্রসেস সেটা চালাচ্ছে মূলত সেই অজানা এক্সটেনশনটা। সে আপনার কম্পিউটারের কোন ক্ষতি করছে না কিন্তু আপনাকে ব্যবহার করে হ্যাকারের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছে। এই ধরণের ম্যালও্যারই বট।
Ramsomware: সম্ভবত এই দশকের কম্পিউটার ব্যাবহারকারীদের জন্যে সবচেয়ে ভয়ানক ম্যালওয়ারের নাম ছিলো র্যামসমওয়্যার। নিজেরই একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করছি। আমি তখন ভার্সিটিতে প্রথম বর্ষের । টরেন্ট থেকে আইডিএম নামায় ইনেস্টল করার চেষ্টা করছিলাম। হুট করে দেখলাম পিসি রিস্টার্ট নিলো । তারপর দেখি ওমা সব ফাইলই লকড। যাই ক্লিক করি তাতেই একটা টেক্সট ফাইল ওপেন হয় লেখা অমুক পেপাল একাউন্টে টাকা দাও ছেড়ে দিবো। আমি ছাত্রমানুষ এগ্লা নিয়ে মাথা ব্যথা না করে দিলাম হার্ডডিক্স ফরম্যাট করে। মূলত ডিজিটাল চাঁদাবাজির চুরান্ত পর্যায় ছিলো এটা। মূলত এই ধরণের টুলস আপনার সিস্টেমে থাকা সকল ফাইলকে এনক্রিপ্ট করে দিবে। আপনার কাছে চাঁদা চাবে আপনার তথ্য জিম্মি করে।
Scareware: এই ধরণের টুলস ব্যাবহার করা হয় আপনাকে ভয় দেখাতে। আপনি গান নামাতে কোন একটা ওয়েব সাইটে গেলে। দেখলেন আপনার ব্রাউজারে একটা পপ আপ উইন্ডো আসছে। যেখানে লেখা আপনার ডিভাইসটি হ্যাকারের দখলে আপনি অমুক সফটওয়্যার নামায় নিজেকে রক্ষা করুন।
Rootkit: এটা সম্ভবত সবচেয়ে ভয়ানক ম্যালওয়ার। এই ধরণের টুলস আপনার পিসিতে ঢুকলে আপনার অপারেটিং সিস্টেমের ব্যাকডোর তৈরি করে দিবে যা দিয়ে হ্যাকারমহাশয় আপনার একাউন্টে ঢুকে আপনাকে তছনছ করে দিবে।
Virus: ভাইরাস শব্দটার সাথে আমরা প্রায় সকলেই পরিচিত। সাধারণত আমরা ভাইরাস বলতে সেটাই বুঝি যা দ্বারা হ্যাকিং হয়। কিন্তু ভাইরাস মূলত একটা কোড যা আপনার পার্মিশন ছাড়া কিছুই করতে পারে না। এরা প্রায় সকল মাধ্যমেই ছড়ায় যেমন ওয়েব পেনড্রাইভ ইমেইল সব কিছু মানে সব কিছু।
Trojan Horse: ট্রয় মুভিটা দেখেছিলেন হয়ত । সেখানের একটা দৃশ্যে এক রাজ্যের শত্রুরা রাজ্যটিকে ধ্বংস করতে পারছিলো না কোনভাবেই। শেষে একটা কাঠের ঘোড়া বানায় তারা সেই ঘোড়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকে। সেই রাজ্যের মানুষ মনে করে যে শত্রুরা পালিয়েছে। তারা বিজয় উল্লাস করতে কাঠের ঘোড়াটিকে দূর্গে আনে। তারপর বাকীটা ইতিহাস। ধ্বংস হয় ট্রয়।এই ধরণের ম্যালওয়ার দ্বারা আক্রান্ত হলে আপনি হ্যাকারকে আপনার এডমিনিস্ট্রেটিভ রোল দিয়ে দেবেন হ্যাকারকে। সেটা দিয়ে হ্যাকার কি করবে সেটা হ্যাকারের ইচ্ছা।
Worms: সর্টকাট ভাইরাস আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুর কম্পিউটারে দেখে নাই এমন মানুষ খুব কমই আছে বাংলাদেশে । এই ধরণের ম্যালওয়ার মূলত নিজে নিজে নিজের বাচ্চা দেয় । এদের মূলত দরকার একটা মাত্র হোস্ট প্রোগ্রাম । ব্যাস বাকীটা সে নিজেই করে নিবে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন