সাইবার নিরাপত্তা কি?
আপনি আমি কে আমাদের পরিচয় কি তা বাস্তবজীবনে ফুটে উঠলেও এর বাইরেও আমাদের একটা পরিচয় আছে সেটা হলো ডিজিটাল পরিচয়। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এসে আমাদের সম্পর্কে প্রতিনিয়ত আমাদের সম্পর্কে একাধিক তথ্য জমা হচ্ছে ইন্টারনেট নামক ভার্চুয়াল বা সাইবার এক জগতে । আমাদের জন্মের সাথে সাথে আমাদের জন্মনিবন্ধনের সাথে সাথেই আমাদের নাম নথিভুক্ত হয় সাইবার দুনিয়ায় । তৈরী হয় আমাদের ডিজিটাল পরিচয়। বাস্তবজীবনের কোটি মানুষদের ভীরে যেমন আমাদের জন্যে পদে পদে খারাপ মানুষদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায় যারা আমাদের ক্ষতি করতে মুখিয়ে থাকে ঠিক তেমনি সাইবার জগতেও এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম না। থ্রেট কথাটা শুনলেই মনে হয় এমন কোন কার্যক্রম যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যহত করতে পারে অথবা আমাদের জন্যে হুমকীর কারণ এমন কোন কাজ যা বাস্তবজীবনে খারাপ মানুষেরা করে থাকে। সাইবার দুনিয়ায় আপনার সাইবার জীবনকে যদি কোন ব্যক্তি বা সংগঠন যদি হুমকির মধ্যে ফেলে তবে তাই সাইবার থ্রেট। সাইবার সিকিউরিটি হলো তেমনই একটি আত্মরক্ষা কৌশল যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে প্রতিনিয়ত আসা সাইবার থ্রেট থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
আপনার প্রশ্ন হতে পারে সাইবার অপরাধীরা আপনার কাছে কি চায়?
সাইবার অপরাধীরা আপনার কাছে চায় আপনার কষ্টার্জিত অর্থ,পরিচয়,সম্মান অথবা আপনাকেই তারা ব্যবহার করে অন্য কারো কাছে অর্থ লাভ করার উপায়।
উদাহরণ দিতে শুরু করলে শেষ করা যাবে না কিন্তু তবুও দু একটা উদাহরণ দেয়া উচিত বলেই মনে হচ্ছে।
ধরুন একদিন আপনার ফেসবুক আইডির কোন এক বন্ধু একটা লিংক পাঠালো ম্যাসেঞ্জারের ম্যাসেজে । সরল মনে ক্লিক করে বসলেন । দেখা গেলো আপনার ফেসবুক একাউন্টটা আবার লগইন করতে বলছে। আপনি ভেবে বসলেন হয়ত কোন টেকনিক্যাল ফল্ট যাই লোগো ইন করি। করলেন একটু পর দেখলেন আপনার আইডি হ্যাক হয়ে গেছে। আপনার কাছের মানুষজন একটু পরে ফোন করে জানালো আপনার আইডি থেকে টাকা ধার চাচ্ছেন।অনেকে দিয়েও দিছে।আপনি আপনার আইডি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করে দেখলেন আপনাকে হ্যাকার আপনাকে জানাচ্ছে টাকা দাও ফেরত দিবো তোমার ফেসবুক আইডি নাহলে ম্যাসেঞ্জারে তোমার সাথে তোমার প্রেমিকার কথোপকথন ফাঁস করে দেবো সোসাল মিডিয়ায়। আপনি বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিতে বাধ্য হলেন।
আবার ধরুন আপনি আইডিএম ডাউনলোড করতে গেলেন কোন এক ওয়েব সাইট থেকে। সেটাপ ফাইল নামানোর পর ইনেস্টল করলেন। দেখলেন কিছুক্ষণ পর আপনার কম্পিউটারে থাকা সবগুলো ফাইল লক হয়ে গেছে। ওপেন করতে গেলে আপনার স্ক্রিনে একটা উইন্ডো ওপেন হচ্ছে সেখানে লেখা এই নাম্বারে / এই পেপালে টাকা পাঠাও তবেই ফেরত পাবে ফাইলগুলো আনলকের পাসওয়ার্ড ।বাধ্য হয়ে দিয়ে দিলেন টাকা।
একদিন আপনার নাম্বারে কল আসলো +১৬২৪৭ নম্বর থেকে ভাইয়া আমি বিকাশ থেকে নাহিদ বলছি। কারিগরী জটিলতার কারণে আপনার আইডিটি লক হয়ে গেছে। আপনার বিকাশের পিন নম্বরটি বলেন আমরা সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করে দিচ্ছি। ভুলোমনে দিয়ে দিলেন পিন নাম্বার । একটু পরে ফোনে ম্যাসেজ আসলো আপনার বিকাশে থাকা সব টাকা তুলে নিছে সেই নাহিদ নামের সেই সাইবার অপরাধী।
ঠিক এভাবেই প্রতিনিয়ত আপনার সাবধানতার অভাবে সাইবার অপরাধীরা আপনার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলবে । তাই সময় এসেছে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করা।নিজের পাশাপাশি নিজের আশেপাশে থাকা মানুষগুলোকেও সুরক্ষিত রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন