স্ত্রী ও পুরুষবাচক শব্দ
স্ত্রী ও পুরুষবাচক শব্দ ২ প্রকার। তারা হলো,
১। পতি-পত্নীবাচক শব্দ – সম্পর্ক বিবাহউত্তোর। যেমনঃ বাবা-মা,চাচা-চাচী
২। সাধারণ স্ত্রী-পুবাচক শব্দ – যাদের মাঝে
বিবাহউত্তোর সম্পর্ক নেই। যেমনঃ ভাই-বোন।
পুরুষ-বাচক শব্দকে স্ত্রী-বাচক শব্দে রূপান্তর
করার উপায় চারটি।
১। পুরুষ-বাচক শব্দের শেষে প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রী-বাচক শব্দ তৈরী
করা যায়।
যেমনঃ নায়ক এর শেষে ইকা যুক্ত করে স্ত্রী-বাচক
তৈরী করা যায়।
নায়ক + ইকা = নায়িকা
এখানে ইকা একটি প্রত্যয়।
২। শব্দের শেষের প্রত্যয় পরিবর্তন করে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরী করা যায়।
যেমনঃ মামা শব্দের শেষের আ প্রত্যয় পরিবর্তন
করে ঈ প্রত্যয় যুক্ত করে মামী স্ত্রী-বাচক শব্দে রূপান্তরিত করা যায়। যেমনঃ
মাম + আ = মামা
মাম + ঈ = মামী
৩। অনেক সময় ভিন্ন শব্দ ব্যাবহার করে স্ত্রী-বাচক শব্দ তৈরী করা যায়। যেমনঃ ভাই-বোন,
বোন –দুলাভাই।
৪। এটি বিশিষ্ট পদ্ধতি।
ক। এই ক্ষেত্রে পুরুষ-বাচক শব্দের ক্ষেত্রে
শব্দের শেষে বান থাকলে বতী ব্যবহার করে
স্ত্রী-বাচক শব্দ করতে হবে। মান থাকলে মতী
ব্যবহার করে স্ত্রী-বাচক শব্দে রূপান্তরিত করতে হবে। যেমনঃ বুদ্ধিমান – বুদ্ধিমতী
খ।
বাংলা ভাষার কিছু শব্দ নির্দিষ্ট ভাবে পুরুষ-বাচক নির্দেশ করে। এদের সামনে মহিলা যুক্ত করে স্ত্রী-বাচক শব্দে
রূপান্তরিত করতে হয়। যেমনঃ মন্ত্রী – মহিলা মন্ত্রী, কবি – মহিলা কবি, শিল্পী
– মহিলা শিল্পী।
গ।
এমন কিছু শব্দ আছে যা পুরুষ বা স্ত্রী-বাচক নির্দেশ করে না। এক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম
মানতে হয়।
যেমনঃ গরু-গাভী এটি ভুল। এক্ষেত্রে গরু – গাইগরু , গরু – বলদ গরু করে পুরুষবাচক
বা স্ত্রীবাচকে রূপান্তরিত করতে হবে।
স্ত্রী-পুরুষবাচক শব্দের তিনটি রূপ আছে,
ক।
কিছু স্ত্রী বাচক শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই । এদের নিত্যস্ত্রীবাচক শব্দ বলে। যেমনঃ সতীন,সধবা,বিধবা।***
খ।
কিছু পুরুষবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ নেই । এদের নিত্যপুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমনঃ ঢাকী,ঢুলি, কবিরাজ,রাষ্ট্রপতি
গ।
কিছু শব্দ আছে যারা স্ত্রী ও পুরুষ উভয়কে বোঝায় । যেমনঃ বাচ্চা, শিশু, শিক্ষার্থী।
সোর্সঃ


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন