প্রণালী ও খাল - BCS 46
প্রণালী দুইটা বড় জলভাগকে সংযুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
খাল ও প্রণালীর মধ্যে পার্থক্য হলো খাল মানব সৃষ্ট হলেও প্রণালী হবে প্রকৃতি
সৃষ্ট।
বেরিং
প্রণালী
Bering sea এর মাঝে আছে Bering strait বা
বেরিং প্রণালী যার একপাশে আছে USA এর আলাস্কা এবং আরেকপাশে আছে রাশিয়ার । একসময় আলাস্কা
রাশিয়ার অংশ ছিলো পরবর্তীতে রাশিয়া আলাস্কাকে আমেরিকার কাছে বিক্রয় করে দেয়। আমরা বলতে
পারি বেরিং প্রণালি পৃথক করেছে আমেরিকা মহাদেশ (আমেরিকা) কে এবং এশিয়া মহাদেশ (রাশিয়া)
কে এবং এটি সংযুক্ত করেছে চুকচি সাগর (আর্কটিক সাগর) এবং বেরিং সাগর (প্রশান্ত সাগর)
কে।
তাতার
প্রণালী
তাতার প্রণালীর দুইপাশে আছে সাখালিন দ্বীপপুঞ্জ
ও রাশিয়া। এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মাঝে বিবাদ আছে। এই দ্বীপটি বর্তমানে
রাশিয়ার দখলে আছে। একদিকে আছে জাপান সাগর আরেকপাশে আছে ওখটক্স সাগর যা যুক্ত হয়েছে
তাতার প্রণালীর মাধ্যমে।
ফরমোসা
প্রণালী/ তাইওয়ান প্রণালী
ফরমোসা শব্দের অর্থ সুন্দর যা একটি পুর্তগীজ
শব্দ। এই ফরমোসা/তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে চীন ও তাইওয়ান পৃথক হয়েছে। পূর্বে চীন ও তাইওয়ান
একসাথে থাকলেও ১৯৪৯ সালে চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সময় তাইওয়ান চীন থেকে পৃথক হয়ে
যায়। এই প্রণালীটি পূর্ব চায়না সাগর ও পশ্চিম চায়না সাগরকে যুক্ত করতে কাজ করে।
মালাক্কা
প্রণালী
ভূ-কৌশলগত কারণে মালাক্কা প্রণালী সবচেয়ে
বেশি গুরুত্ব বহন করে থাকে। মালাক্কা প্রণালী পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম প্রণালী। চীন
মালাক্কা প্রণালী দিয়েই ভারত মহাসাগরে যেতে পারে। মালাক্কা প্রণালী পৃথক করেছে মালয়শিয়া
ও ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রাকে। এই প্রণালী সংযুক্ত করেছে আন্দামান সাগর (ভারত সাগর) ও
দক্ষিণ চীন সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) কে।
সুন্দা
প্রণালী
এই প্রণালীর একদিকে আছে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা
আরেক পাশে আছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা। এই প্রণালী সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরকে।
পক
প্রণালী
পক প্রণালী পৃথক করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে
এবং সংযুক্ত করেছে বঙ্গপোসাগর ও মান্নার উপ সাগরকে। আবার অনেক সময় বলা হয় বঙ্গপোসাগর
ও আরব উপসাগরকে এই প্রণালী যুক্ত করেছে। যদিও এটি ভুল তবুও মনে রাখা ভালো।
হরমুজ
প্রণালী
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই প্রণালী
দিয়ে ২০-৩০% তেল পরিবহন হয়ে থাকে। হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর (আরব
সাগর) কে যুক্ত করে। হরমুজ প্রণালী ইরানকে পৃথক করেছে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে
পৃথক করেছে।
বাব
আল মান্দেব প্রণালী
বাব আল মান্দেব প্রণালীকে বলা হয় The
Gate of Tears এর একপাশে আছে জিবুতি (আফ্রিকা) ও আরেকপাশে আছে ইয়েমেন(এশিয়া)। এই প্রণালীটি
সংযুক্ত করেছে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর বা আরব সাগরকে।
সুয়েজ
খাল
সুয়েজ খাল ১৮৫৯-১৮৬৯ সালে তৈরির কাজ করে এবং
১৮৬৯ সালে সুয়েজখাল খুলে দেয়া হয়। সুয়েজ খাল মিশরের একটি অংশ। সুয়েজখাল মিশরের আফ্রিকার
অংশ ও মিশরের এশিয়ার(সিনাই) অংশকে পৃথক করেছে।
জিব্রালটার
প্রণালী
জিব্রালটার প্রণালীর নাম এসেছে জাবাল তারিকের
নাম অনুসারে যিনি একজন মুসলিম শাসক ছিলেন। এই প্রণালী আমেরিকার মালিকানায়। এই প্রণালীটি
পৃথক করেছে স্পেন(ইউরোপ) – মরক্কো (আফ্রিকা) কে এবং সংযুক্ত করেছে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক
মহাসাগরকে।
দার্দানেলিস
প্রণালী
দার্দানেলিস প্রণালী পৃথক করেছে থ্রেস (ইউরোপ)
এবং আনাতলিয়া(এশিয়া) যা তুরস্কের দুটো শহর।এটি সংযুক্ত করেছে এজিয়ান সাগর ও মর্মর সাগরকে
।
বসফরাস
প্রণালী / ইস্তামবুল প্রণালী
এই প্রণালী ইস্তামবুলকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে
যার একটি অংশ ইউরোপ ও এশিয়ায় পড়েছে। এই প্রণালী সংযুক্ত করেছে কৃষ্ণ সাগর ও মর্মর সাগর
কে।
ইংলিশ
চ্যানেল
ইংলিশ চ্যানেল পৃথক করেছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে
এবং সংযুক্ত করেছে আটলান্টিক সাগর ও উত্তরসাগরকে।
ডোভার
প্রণালী
ডোভার প্রণালীও ইংলিশ চ্যানেলের মতই ফ্রান্স
ও ব্রিটেনকে পৃথক করেছে তবে এক্ষেত্রে ফ্রান্সের শহরটির নাম ক্যালি শহর ও ব্রিটেনের
শহরটির নাম ডোভার শহর যা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালী সংযুক্ত করেছে আটলান্টিক
সাগর ও উত্তরসাগরকে।
পানামা
খাল
১৯০৪ সালে পানামা খাল খননের সিদ্ধান্ত নেয়া
হয় এবং ১৯১৪ সালে এই খাল খনন সম্পন্ন হয়। পানামা খালটির এপারে উত্তর আমেরিকা আরেক পাশে
দক্ষিণ আমেরিকা। পানামা খাল সংযুক্ত করেছে পানামা উপসাগর(প্রশান্ত মহাসাগর) + ক্যারিবিয়ান
মহাসাগর (আটলাণ্টিক মহাসাগর)



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন