দ্বিরুক্ত শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব
দুইবার উক্ত বা বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। এই শব্দগুলো সম্প্রসারিত অর্থ বা সংকুচিত অর্থ প্রকাশ করে থাকে।
যেমনঃ পাকা পাকা আম – সম্প্রসারণ , কম কম কাজ - সংকোচন
দ্বিরুক্ত শব্দ বা
শব্দ দ্বিত্ব মোট ৫ প্রকার।
১। শব্দের দ্বিরুক্তি – যেসকল
ধ্বনির সমষ্টি অর্থ প্রকাশ করা সত্ত্বেও বাক্যে ব্যবহৃত নাই তাদের শব্দ বলে।
২। পদের দ্বিরুক্তি - যেসকল ধ্বনির সমষ্টি অর্থ প্রকাশ করা সত্ত্বেও বাক্যে
ব্যবহৃত হয় তাদের পদ বলে।
এখানে লাল লাল গোলাপ
বাক্যে লাল লাল কি ধরণের দ্বিরুক্তি?
এখানে লাল লাল গোলাপ বাক্যটিতে কোন ক্রিয়া নেই তাহলে এটি বাক্য না এটি শব্দের দ্বিরুক্তি
।
কিন্তু যদি লেখা থাকত “আমি ভালোবাসি
লাল লাল গোলাপ” এক্ষেত্রে “লাল লাল”
হয়ে যেত পদের দ্বিরুক্তি।
৩। ধন্যাত্মক বা অনুকার দ্বিরুক্তি
– বাংলা শব্দে কিছু শব্দ আছে যা আমরা বুঝি শুনি কিন্তু সঠিকভাবে হুবুহু উচ্চারণ করতে
পারি না। যেমনঃ জীবজন্তুর আওয়াজ, মানুষের বিভিন্ন অনুভূতি।
এগুলো প্রকাশ করার জন্যে যেসকল ধ্বনি ব্যবহার করে থাকি তাদের আমরা বলি ধ্বনি
অনুকার বা ধন্যাত্মক অনুকার। আর যদি এগুলো দুইবার ব্যবহৃত হয় তবে তাদের বলে ধন্যাত্মক
অনুকার বলে।
কুকুর ডাকে ঘেঊ ঘেউ। এখানে ঘেউ ঘেউ এটাই ধন্যত্মক দ্বিরুক্তি বা অনুকার দ্বিরুক্তি।
৪। যুগ্মরীতির দ্বিরুক্তি – যদি দ্বিরুক্তির
ক্ষেত্রে প্রথম অংশের তুলনায় দ্বিতীয় অংশের পরিবর্তন হয়ে গেলে তাকে যুগ্মরীতির দ্বিরুক্তি
বলে।
যেমনঃ দেখাশোনা, ছটফট, অলিগলি।
৫। পদাত্মক দ্বিরুক্তি – বিভক্তি যুক্ত শব্দকে দুইবার ব্যবহার করার পদ্ধতিকেই পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে। যেমনঃ হাতে-হাতে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সোর্সঃ


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন